Home বাংলাদেশের খবর করোনাভাইরাসের টিকা যেন সবাই একসঙ্গে পায়: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের টিকা যেন সবাই একসঙ্গে পায়: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

মহামারীতে বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের অভিঘাতে বাংলাদেশকে যে সঙ্কটের মোকাবেলা করতে হচ্ছে এবং সেখান থেকে উত্তরণে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তা সবিস্তারে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, তার সরকার প্রথম থেকে জীবন ও জীবিকা দুই ক্ষেত্রেই ‘সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে’ কার্যক্রম শুরু করেছিল। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন যাতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেজন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজে মোট ১৩.২৫ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির ৪.০৩ শতাংশের সমান। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে ব্যাপকভাবে।

তিনি বলেন, “সরকারি সহায়তার পাশাপাশি আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে তহবিল সংগ্রহ করে এতিম ও গরীব শিক্ষার্থী, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, স্কুল শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ যারা সাধারণভাবে সরকারি সহায়তার আওতাভুক্ত নন, তাদের মধ্যে ২.৫ বিলিয়নের বেশি টাকা বিতরণ করি। যার ফলে সাধারণ মানুষকে করোনাভাইরাস খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি।”

করোনাভাইরাস যাতে ব্যাপকহারে ছড়াতে না পারে, সেজন্য সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পাশাপাশি সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যার সুফল হিসেবে আমরা লক্ষ্য করছি, ঋতু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশে যেসব রোগের প্রাদুর্ভাব হয়, এবার সেসব রোগ তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।”

শেখ হাসিনা বলেন, এই মহামারীর সঙ্কটে তার সরকার খাদ্য উৎপাদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের শিল্প কারখানা সচল রাখা এবং কৃষি ও শিল্পপণ্য যথাযথভাবে বাজারজাতকরণের বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। তার ফলে বাংলাদেশের স্ব্যাস্থ্য ও অর্থনীতি ‘এখনও তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো’ আছে।

কোভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বব্যাপী উৎপাদনে স্থবিরতার পরও বাংলাদেশর ৫.২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

মহামারীর মধ্যে বিদেশে বাংলাদেশের অনেক কর্মীর কাজ হারানোর বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, “অনেককে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেশে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের প্রণোদনা বাবদ ৩৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি। তবে কোভিড-পরবর্তী সময়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি সহমর্মিতার সঙ্গে ও ন্যায়সঙ্গতভাবে বিবেচনা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অভিবাসী গ্রহণকারী দেশসমূহের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর বিদ্যমান সমস্যাগুলো যে প্রতিনিয়ত ‘প্রকট হচ্ছে’ এবং মহামারীর এই সঙ্কটকালেও বাংলাদেশবে যে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করতে হয়েছে, সে কথাও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’, এই নীতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূলমন্ত্র। এ মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং শান্তির সংস্কৃতি বিনির্মাণে নিয়মিত অবদান রেখে চলেছে। জাতিসংঘের শান্তি মিশনে শান্তিরক্ষীর সংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন শীর্ষে।

“সংঘাতপ্রবণ দেশসমূহে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তি বজায় রাখতে আমাদের শান্তিরক্ষীগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম দায়িত্ব।”

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামেতি অবর্ণনীয় দুর্দশা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মত জঘন্য অপরাধের শিকার হয়েছে বাঙালি জাতি। সেই কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশ নিপীড়িত ফিলিস্তিনী জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ ১১ লাখের বেশি ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত মিয়ানমার নাগরিককে’ যে আশ্রয় দিয়েছে এবং তিন বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমার যে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি, সে বিষয়ে আবারও বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

“এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।”

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদে অন্তর্নিহিত বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রতি বাংলাদেশের ‘অগাধ আস্থা’ রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও বহুপাক্ষিকতাবাদের আদর্শ সমুন্নত রাখতে তার সরকার ‘বদ্ধপরিকর’।

“পাশাপাশি আমরা আমাদের জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সে সোনার বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত- যেখানে সবার মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে জাতি ও বিশ্বের নিকট এটিই আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।”

100% Free Domain Hosting - Dreamhost banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

বগুড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে কনেকে ‘অপহরণচেষ্টা’

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে কনেকে অপহরণচেষ্টার অভিযোগ দুইজন আটক হয়েছেন। এছাড়া …