Home খেলা দাদার একাধিক মাস্টার স্ট্রোকেই বাজিমাত, একাধিক প্রতিকূলতাকে দূরে সরিয়ে শুরু আইপিএল
খেলা - September 20, 2020

দাদার একাধিক মাস্টার স্ট্রোকেই বাজিমাত, একাধিক প্রতিকূলতাকে দূরে সরিয়ে শুরু আইপিএল

Game time begins…. অর্থাৎ খেলার শুভারম্ভ। শনিবার রাতে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ভেসে উঠলো এই তিনটি শব্দ। আইপিএল-১৩ উদ্বোধনী ম্যাচের মাঝেই দাদার নিজের ছবি পোস্ট, সাথে ওপরের কথাগুলো লেখা। আর এই সামান্য লেখাই যেন সব প্রশ্নের উত্তর। করোনা আবহে একাধিক প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে দূর করে ২২ গজে ফিরতে পারলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। সৌজন্যে আইপিএল এবং অবশ্যই সৌরভের বিসিসিআই। মেগা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা নিয়ে বোর্ড কর্তাদের হাল না ছাড়া মনোভাবেরই ফল ছয় মাস পর আইপিএল শুরু হওয়া।

Web content writing training Online

২৯ মার্চ পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আইপিএল শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল চেন্নাইয়ের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি। টুর্নামেন্ট ঘিরে একাধিক পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন সদ্য বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট পদে বসা সৌরভ। বাড়তি খরচ কমাতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করার পাশাপাশি প্রথমবার অল স্টার ম্যাচের আয়োজন করার পরিকল্পনা নিয়েছিল বোর্ড। তবে সবকিছুই থমকে যায় অতিমারী কোভিড-19 ভাইরাসের দাপটে। অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দিতে হয় আইপিএল। হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয় বিসিসিআই। এর মধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসতে থাকে কঠিন পরিস্থিতিতে এক বছরের জন্য টুর্নামেন্ট বাতিল করার।

তবে সৌরভের নেতৃত্বে বিসিসিআই কিন্তু হাল ছাড়েনি। কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্যের পরীক্ষা দেখিয়েছে সৌরভের টিম। লকডাউনের মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে গেছেন কর্তারা। টুর্নামেন্ট বাতিল করলে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হবে তা বোঝাতে সক্ষম হয়েছে বোর্ড। ভারতের মাটিতে প্রবলভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করার ইচ্ছে থাকলেও করোনার প্রকোপ দিন দিন বাড়তে থাকায় টুর্নামেন্ট বিদেশের মাটিতে নিয়ে গেছেন কর্তারা। কঠিন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত ছিল বোর্ডের প্রথম মাস্টার স্ট্রোক। বিসিসিআইয়ের কাছে শাপে বর হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এক বছরের জন্য আইসিসি পিছিয়ে যাওয়া। আইপিএলের জন্য উইন্ডো খুঁজে পেতেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েন সৌরভ, জয় শাহ, ব্রিজেশ প্যাটেলরা। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে  সবুজ সংকেত আদায় করার পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি গুলিকেও বোঝাতে সক্ষম হয় বোর্ড। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আইপিএল আয়োজন করতে চাইলেও বিসিসিআই কর্তারা কিন্তু বেছে নেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ২০১৪ সালের আইপিএলের প্রথম পর্ব মরু দেশে আয়োজন করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন UAE-কে। এখানেও বোর্ডের মাস্টার স্ট্রোক।

আইপিএল বিদেশের মাটিতে আয়োজন করার অনুমতি পাওয়ার পরেও বেকায়দায় পড়তে হয় বিসিসিআইকে। সীমান্ত সংঘর্ষে ভারত-চিন সম্পর্কে অবনতি হওয়ার পর টুর্নামেন্টের চিনা স্পনসর ভিভোকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বোর্ড কর্তারা বিষয়টিকে নিয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়ে ভিভোকেই টাইটেল স্পনসর হিসেবে রেখে দেন। তবে ঘোষণার দিন কয়েকের মধ্যেই টুর্নামেন্টের স্পনসর করা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় ভিভো। বছরে ৪৪০  কোটি টাকা দেওয়া চিনা মোবাইল সংস্থার সরে যাওয়া পর বেশ অস্বস্তিতেই পরে বিসিসিআই। তড়িঘড়ি নতুন স্পনসর জোগাড় করা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিলেও ড্রিম ইলেভেনকে টাইটেল স্পনসর ঘোষণা করে বোর্ড। দুটি কো-স্পনসরও জোগাড় করে বিসিসিআই। ফলে আর্থিক ক্ষতির জায়গাটা প্রায় পুরোটাই কমিয়ে নেন বোর্ড কর্তারা।

তবে সব কিছুর মধ্যেও আইপিএল আয়োজনের ক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের সবথেকে বেশি প্রাধান্য ছিল ক্রিকেট আপডেট স্বাস্থ্যবিধি। কয়েকশো পাতার এসওপি তৈরি করা হয়। মাঠে এবং হোটেলে জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হয়। নিউ নর্মালে বলে থুতু লাগানো বন্ধ করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। নিয়মিত করোনা পরীক্ষা চালু হয়। কিন্তু এরপরও সমস্যায় পড়তে হয় বিসিসিআইকে। দুবাইয়ে আইপিএল খেলতে গিয়ে করোনা ধাক্কায় জেরবার হয় চেন্নাই সুপার কিংস। ধোনির দলে দু’জন ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফ মিলিয়ে মোট ১৩ জন করোনা আক্রান্ত হন। এই সময়েও চাপের মুখে নিজেদের লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যান বোর্ড কর্তারা। স্বাস্থ্যবিধি আরও কঠিন করার পাশাপাশি সব দলকে সতর্ক করা হয়। আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ প্যাটেল কয়েক সপ্তাহ আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চলে যান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য। এক সপ্তাহ ধরে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ নিজে খতিয়ে দেখেছেন সমস্ত প্রস্তুতি। সফলভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে কাজে লাগানো হয় প্রাক্তন আইপিএল প্রধান রাজীব শুক্লাকে। এগুলি সবই সৌরভের মস্তিষ্কপ্রসূত।

সব মিলিয়ে এতকিছুর পরেও সমস্ত প্রতিকূলতাকে দূর করে আইপিএল শুরু হওয়ায় বিসিসিআইকে কুর্নিশ ক্রীড়ামহলের। আর এই সাফল্যের পিছনে যাঁর অবদান সবথেকে বেশি তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বিসিসিআইয়ের তরুণ টিম। সচিব জয় শাহ, কোষাধ্যক্ষ অরুণ সিং ধুমালদের সঙ্গে নিয়ে কঠিন লড়াই লড়ে গিয়েছেন দাদা। টিম ইন্ডিয়ার মত বোর্ড কর্তাদের বেঁধে ফেলেছিলেন একসূত্রে। লকডাউন থেকে আনলক পর্বে নিঃশব্দে বোর্ডের কাজ করে গেছে সৌরভ অ্যান্ড কো‌ং। ক্রিকেট মাঠের বাইরে প্রশাসক হিসেবেও সৌরভের এই সাফল্য ক্রিকেট ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

100% Free Domain Hosting - Dreamhost banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

KKR vs KXIP: শেষ ওভারে মাথা ঠাণ্ডা রাখাই ছিল লক্ষ্য, বললেন নাইটদের জয়ের নায়ক সুনীল নারিন

কিংস ইলেভেনকে মাত্র ২ রানে হারিয়ে উঠে শনিবার নারিন জানান, শেষ ওভারের বল করার সময়ে রক্তচা…