Home বাংলাদেশের খবর প্রতিযোগিতার মধ্যেই মোগল ঐতিহ্য ধরে রেখেছে চকবাজার ইফতার

প্রতিযোগিতার মধ্যেই মোগল ঐতিহ্য ধরে রেখেছে চকবাজার ইফতার

বরাবরের মত এই রমজানেও পুরান ঢাকায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ইফতারি আয়োজনে এক ধরনের অলিখিত প্রতিযোগিতা। চকবাজারের অস্থায়ী ইফতারির দোকান থেকে শুরু করে রায়সাহেব বাজারের ‘আল ইসলাম রেস্টুরেন্ট’, ‘ক্যাফে ইউসুফ’, পাটুয়াটুলীর ‘শাহী দিল্লি’, নাজিরা বাজারের ‘বিসমিল্লাহ কাবাব’, ‘হাজি বিরিয়ানি’, ‘হানিফের বিরিয়ানি’ সহ অন্যান্য দোকানে ইফতারি কেন্দ্র করে যোগ হয়েছে নতুন নতুন রেসিপি। প্রায় ৮ দশক ধরে এসব এলাকায় ইফতারির আয়োজন করা হচ্ছে। রমজানের প্রায় ১ মাস আগে থেকেই এসব দোকানের মালিকরা প্রস্তুতি নিতে থাকেন। বাবুর্চি নিয়োগ দিতেও হিমশিম খেতে হয় তাদের।

Web content writing training Online

বংশালের নতুন হোটেল ‘আল রাজ্জাক রেস্টুরেন্ট’ ছাড়াও রায়সাহেব বাজারে গত ১ দশকে গড়ে ওঠা ঘরোয়া ও স্টার হোটেলের ইফতারিরও ব্যাপক চাহিদা গড়ে উঠেছে পুরান ঢাকাবাসীর কাছে।

বিগত বছরের ঐতিহ্য বজায় রেখে চকবাজারের ইফতারিপাড়া এবারও রয়েছে মোগল ঐতিহ্যের ইফতার। চকবাজারের ইফতারিপাড়া ও পুরান ঢাকার অন্যান্য এলাকায় রমজানের প্রথম দিনেই ছিল মুখরোচক খাবারের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় যেটা আমরা বরাবরই রমজানে দেখে থাকি। ‘বড় বাপের পোলারা খায়’, ‘ধনি-গরিব সবাই খায়’, ‘মজা পাইয়া লইয়া যায়’-এর হাঁকডাকে মুখরিত হতে থাকে চিরচেনা চকবাজার এবং চকবাজারের চেহারা দুপুরের পর থেকেই পাল্টাতে থাকে।

চকবাজারে নূরানী, ডিসেন্ট আর আনন্দের হালিম খুব জনপ্রিয়। পুরান ঢাকার অন্যান্য দোকানে পাওয়া যাচ্ছে আস্তমুরগির কাবাব, মোরগ মুসাল্লম, বঁটিকাবাব, টিককাবাব, কোফতা, চিকেন কাঠি, শামিকাবাব, শিকের ভারী কাবাব, সুতিকাবাব, কোয়েল পাখির রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, জিলাপি, শাহী জিলাপি, নিমকপারা, সমুচা, আলাউদ্দিনের হালুয়া, হালিম, দইবড়া, সৌদি পানীয় লাবাং, কাশ্মীরি শরবত, ইসবগুলের ভুসি, পুরি এবং ৩৬ উপকরণের মজাদার অনেক পদের ইফতারি।

পুরান ঢাকার চকবাজারে ইফতারির দাম একটু বেশি হলেও অন্যান্য এলাকায় তুলনামূলকভাবে কম। জিলাপি এক কেজির দাম ১২০, শাহী জিলাপি ১৪০ থেকে ২০০, হালিম ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। শিকের ভারী কাবাব চকবাজার ছাড়া আর কোথাও পাবেন না। এক কেজি কাবাবের দাম ৮০০ টাকা। দইবড়া ছয় পিসের বক্স ১০০ থেকে ২০০, পনির কেজিপ্রতি মূল্য ২২০, চিকেনকাঠি প্রতিটি ৪০ থেকে ১০০, কোয়েল পাখির রোস্ট প্রতিটি ১০০ থেকে ১২০, খাসির রান ৪০০ থেকে ৬০০, আস্তমুরগির রোস্ট ২০০ থেকে ৪০০, কবুতরের রোস্ট ১১০ থেকে ১৮০, কোফতা প্রতিটি ৪০, পুরি প্রতিটি ৩ থেকে ১০ টাকা আর চকের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার ‘বড় বাপের পোলারা খায় ঠোঙায় ভইরা লইয়া যায়’-এর কেজিপ্রতি দাম হচ্ছে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা যার স্বাদ অতুলনীয়।

100% Free Domain Hosting - Dreamhost banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

পুজো হবে, নাকি হবে না ! দোটানায় কলকাতার আবাসনের দুর্গা পুজো !

 হবে, নাকি হবে না? কলকাতার আবাসনে এটাই পুজোর ভাবনা। আবাসনের অনেক আবাসিক দোটানায়! কেউ কেউ …