Home বাংলাদেশের খবর বাংলাদেশে শিক্ষকদের দৈনিক সোয়া সাত ঘন্টা উপস্থিত থাকার নির্দেশ প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ-র

বাংলাদেশে শিক্ষকদের দৈনিক সোয়া সাত ঘন্টা উপস্থিত থাকার নির্দেশ প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ-র

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে ক্যাম্পে নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান রাশেদা কে চৌধুরী বলেন যে  শিক্ষকদের নির্ধারিত ঘণ্টা ধরে কাজ না করার বিষয়টি একটি বড়ধরনের সমস্যা , আর এটা যে প্রকট হয়ে উঠেছে তা এই পরিপত্র জারি করা থেকেই বোঝা যায়।

Web content writing training Online

গত বুধবার ঢাকা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক ইন্দু ভূষণ দেব তাঁর সাক্ষরিত একটি পরিপত্রের মাধ্যমে জানিয়েছেন এই নির্দেশ।ঢাকা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বলেছে দেশটির প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা যাতে তাদের কাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের পুরোটা কর্মস্থলে থাকেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

Source: WSIS 10

ইন্দু ভূষণ দেব এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন যে অনেকসময় থানা বা জেলা শিক্ষা-কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষককে তাদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত পাননি। সেইসব শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান যে তিনি লক্ষ্য করেছেন অনেক শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের পুরোটা না থেকে চার-পাঁচ ঘণ্টা থেকে চলে যান। সাধারনত চার শিফটেরও ক্লাস চলে।অনেক শিক্ষক  একটা দুটো শিফট শেষ হলে চলে যান।তাই জন্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। এখন  কোনও শিক্ষকের ক্লাস না থাকলেও  তারা খাতা-পত্র দেখাশোনা করবেন, বা লেসন পরিকল্পনা তৈরি করবেন, চলে যেতে পারবেন না। ঢাকা বিভাগের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার,তাইজন্য রাখা হয়েছে চারটা করে শিফট। সকাল সাতটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত চার শিফটে ক্লাস চলে। কোথাও কোথাও আবার দুটি শিফটেও কাজ চলে।

শুধু ঢাকা বিভাগেই নয় ঢাকার বাইরে যেখানে নটা থেকে সোয়া চারটা পর্যন্ত একটাই শিফট আছে সেখানেও একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ঠেকাতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকার প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।

অনেক শিক্ষক আজকাল ক্লাসে না পড়িয়ে কোচিং সেন্টারগুলোর সাথে জড়িয়ে যান। অধিক বেতনের বিনাময়ে তারা সেখানে শিক্ষা দান করে থাকেন তাই কম বেতনের বিদ্যালয়ের দিকের থেকে তাদের ঝোঁক ওই কোচিং সেন্টারগুলোর দিকে।এর ফলে তারা বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুপস্থিত থেকে পড়াতে যাচ্ছেন ওই প্রাইভেট টিউশনগুলো।এই অরাজকতা রুখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।

তবে এর আগেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশে এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৯৩টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছে ১০ হাজার ৮০০র বেশি।সব মিলিয়ে দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষক সংখ্যা প্রায় চার লাখ। এই শিক্ষকদের মধ্যে নারী শিক্ষক ৭০ শতাংশের ওপরে, জানান ঢাকা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় উপপরিচালক।

শিক্ষা গবেষক বলেন “এটা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার বিষয়। তবে এটাও মনিটরিং-এর আওতার মধ্যে থাকতে হবে। নাহলে এটা ব্যর্থ হবে। যেমন ধরেন এই পরিপত্র থাকা সত্ত্বেও দেখা গেল অনেক স্কুলে এমনটা ঘটছে। সেখানে রাজনৈতিক অর্থ-বিত্তের প্রভাব খাটিয়ে কেউ যদি পার পেয়ে যায়?”

শিক্ষা গবেষক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন “এটা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার বিষয়। তবে এটাও মনিটরিং-এর আওতার মধ্যে থাকতে হবে। নাহলে এটা ব্যর্থ হবে। যেমন ধরেন এই পরিপত্র থাকা সত্ত্বেও দেখা গেল অনেক স্কুলে এমনটা ঘটছে। সেখানে রাজনৈতিক অর্থ-বিত্তের প্রভাব খাটিয়ে কেউ যদি পার পেয়ে যায়?”

তবে মনে করা হচ্ছে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এই অনুপস্থিতি রোধ করা সম্ভব হবে।

100% Free Domain Hosting - Dreamhost banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

বগুড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে কনেকে ‘অপহরণচেষ্টা’

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে কনেকে অপহরণচেষ্টার অভিযোগ দুইজন আটক হয়েছেন। এছাড়া …