Home বিশেষ খবর ইংরেজ অভিযাত্রী জর্জ ম্যালোরিই কি বিশ্বের সর্বপ্রথম এভারেস্ট জয়ী?বিতর্ক দেখা দিচ্ছে প্রথম এভারেস্ট জয় নিয়ে।
বিশেষ খবর - May 30, 2019

ইংরেজ অভিযাত্রী জর্জ ম্যালোরিই কি বিশ্বের সর্বপ্রথম এভারেস্ট জয়ী?বিতর্ক দেখা দিচ্ছে প্রথম এভারেস্ট জয় নিয়ে।

তেনজিং নোরগে এবং এডমন্ড হিলারি সর্বপ্রথম জয় করেছিলেন বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট।এমনটাই জানেন সবাই।কিন্তু এভারেস্ট থেকে পাওয়া এক ইংরেজ পর্বতারোহীর মৃতদেহ জানান দিচ্ছে সম্পূর্ণ অন্য তথ্যের।১৯৫৩ সালে তেনজিং নোরগে এবং এডমন্ড হিলারি এভারেস্ট অভিযান করেছিলেন এবং জয় করেছিলেন।কিন্তু তার অনেক আগেই এক ইংরেজ অভিযাত্রী  জর্জ ম্যালরি যাত্রা করেছিলেন এভারেস্ট জয়ের উদ্দেশ্যে।তারই মৃতদেহ পরবর্তী কালে পাওয়া যায় এভারেস্টে এবং সাথে মিলেছিল কিছু প্রমাণ।ফলতই প্রশ্ন চিহ্ন এসে পড়েছে নোরগে এবং হিলারীর প্রথম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়ের দাবিতে।আজও সমাধান হয়নি সেই বিতর্কের।আসুন দেখে নেওয়া যাক ঠিক কেন সৃষ্টি হয়েছে এই বিতর্ক?

Web content writing training Online

জর্জ ম্যালরি হলেন একজন ইংরেজ পর্বতারোহী।তিনি ১৯২৪ সালে এভারেস্ট জয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন।এর আগেও তিনি দুইবার করেছিলেন এভারেস্ট অভিযান।কিন্তু সফল হন নি তিনি।কিন্তু তারজন্য হার মানেন নি তিনি।আবার করেছিলেন তৃতীয়বার এভারেস্ট জয়ের পরিকল্পনা।বিপদের আশঙ্কা, মৃত্যু ভয় কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারে নি।সবকিছুকে উপেক্ষা করে তিনি রওনা হয়ে গিয়েছিলেন এভারেস্টের উদ্দ্যেশ্যে।যদিও এই তৃতীয়বারের পরিকল্পনায় সায় ছিল না ম্যালরির স্ত্রী রুথ-এর।স্ত্রীকে বোঝানোর জন্য তিনি তাই স্ত্রীকে বলেছিলেন এবারে যদি তিনি এভারেস্ট জয় করতে পারেন তবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের চূড়ায় তিনি রেখে আসবেন তার স্ত্রীয়ের ছবি।তার স্ত্রীয়ের কাছ থেকেই জানা গিয়েছে তার এই প্রতিশ্রুতির কথা।ম্যালরির এই অভিযানে তার সঙ্গী ছিলেন ২২ বছর বয়সী এক যুবক স্যান্ডি অরভিন।তারা তাদের এই অভিযান করেছিলেন বছরের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময়ে।বর্ষার মরসুম জুন মাসে তার যাত্রা করেছিলেন এভারেস্টের উদ্দ্যেশ্যে।আর সেটিই ছিল তার অন্তিম যাত্রা।

এভারেস্ট
Source: Instagram

বেসক্যাম্প থেকে তিনি তার স্ত্রী রুথকে শেষ চিঠি লিখেছিলেন।তিনি লিখেছিলেন, “বর্ষাকাল এগিয়ে আসছে। এরপর আর ওঠার সুযোগ পাবো কি না জানি না। আমি এখানে পড়ে থাকতে চাই না। পরশুদিন আমরা যাত্রা শুরু করতে চাই।”এরপরই ৪ই জুন তারা অ্যাডভান্স বেসক্যাম্প থেকে রওনা হয়ে যান এবং পরবর্তী তিনিদিনে তারা ষষ্ঠ বেসক্যাম্পে পৌঁছে গিয়েছিলেন।৮ই জুন তাদের শেষ দেখা গিয়েছিল।সেইদিন দুপুরের মধ্যেই তারা পৌঁছে গিয়েছিলেন চূড়ার খুব কাছাকাছি।শেষবার তাদের দেখা গিয়েছিল ৮,৬০০ মিটার উচ্চতায়।সেখান থেকে তাদের গন্তব্যের মধ্যে দূরত্ব ছিল মাত্র ২৫০ মিটার।কিন্তু পথ ছিল অত্যন্ত দূর্গম।পথ বলতে সামনে শুধু ছিল ৪০ ফুট খাঁড়া বরফের দেওয়াল।কিন্তু তার পরে তাদের আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।আবহাওয়া খারাপ থাকার জন্য প্রচন্ড তুষার ঝড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।এরপরে হিলারি এবং নোরগের শৃঙ্গ জয়ের পর থেকেই উঠতে শুরু করে প্রশ্ন।তবে কি আরভিন ও ম্যালরিই প্রথম জয় করেছিল এভারেস্ট?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে ১৯৯৯ সালে শুধুমাত্র ম্যালরি ও আরভিনের মৃতদেহ খুঁজতেই পাঠান হয়েছিল একটি তদন্তকারী দলকে।তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ম্যালরি ও আরভিনের মৃতদেহ ও তাদের ক্যামেরা খুঁজে বের করা।তাদের ক্যামেরা খুঁজে পাওয়া গেলেই হয়ে যাবে রহস্যের সমাধান।কারণ তারা যদি এভারেস্ট জয় করে থাকেন তবে তার প্রমান নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে তাদের ক্যামেরায়।এই অভিযানে তারা হয়েছিলেন আধা সফল।ম্যালরির মৃতদেহ খুঁজে পেলেও তারা খুঁজে পাননি তার সঙ্গী আরভিনের মৃতদেহ।ম্যালরির পোষাকের মধ্যেই উদ্ধার হয়েছে তার ব্যক্তিগত সমস্ত জিনিসপত্র কিন্তু শুধু পাওয়া যায়নি ম্যালরির স্ত্রী রুথের ছবি।যাকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবারের যাত্রায় তিনি যদি সফল হন তাহলে এভারেস্টের চূড়ায় রেখে আসবেন তার ছবি।তবে কি সত্যিই তিনি পূরণ করতে পেরেছিলেন তার প্রতিশ্রুতি?এভারেস্ট জয় করে কি তাহলে সেখানেই রেখে এসেছিলেন স্ত্রীয়ের ছবি যার জন্য তার কাছ থেকে পাওয়া যায় নি ছবিটি?বিতর্কের সমাধান এখানেও হল না।ম্যালরির এভারেস্ট জয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে দন্ধ সেই রয়েই গেল।উত্তর একমাত্র জানে সেই আদি হিমালয়।

আরও পড়ুনঃমিঠুন চক্রবর্তীর ছোট ছেলে নমশী চক্রবর্তী এবার আসছে বড় পর্দায় – সেকি পারবে তার বাবার মত দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে?

 

 

 

 

100% Free Domain Hosting - Dreamhost banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

১৫ ফুট নিচে সেতু থেকে পিছলে পরে ২৯ জনের মৃত্যু যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে !

১৫ ফুট নিচে সেতু থেকে পিছলে পরে ২৯ জনের মৃত্যু হলো সোমবার সকালে | ঘটনাটি ঘটে দিল্লির কাছে …