ভূতেদের বাসস্থান
Home অফবিট পাঁচমিশালি জানেন কি কোলকাতার বুকেই ছড়িয়ে আছে ভূতেদের বাসস্থান ?- জেনে নিন কোলকাতার ভূতুরে স্থানগুলোর অস্তিত্ব!

জানেন কি কোলকাতার বুকেই ছড়িয়ে আছে ভূতেদের বাসস্থান ?- জেনে নিন কোলকাতার ভূতুরে স্থানগুলোর অস্তিত্ব!

কোলকাতায়ও আছে এমন কিছু জায়গা যেগুলি এই ভুতেদের উন্মুক্ত চারণভুমি হিসেবে বিখ্যাত থুরি কুখ্যাত।চলুন দেখে নেওয়া যাক কোলকাতার ভুতেদের বাসস্থান -এর সন্ধান।

কোলকাতা একটি জনপ্রিয় জনবহুল শহর।বারো মাসে তেরো পার্বনের মতো উৎসব লেগেই আছে এই শহরে।তাই এর নামও ‘সিটি অব জয়’।সেই ব্রিটিশদের রাজত্বের সময়ও কোলকাতা ছিল ব্রিটিশদের রাজধানী।তাই স্বাভাবিক ভাবেই কোলকাতায় পুরোনো বাড়ি ঘর, মনুমেন্ট, স্থাপত্যের সংখ্যা বেশি।আর যেই শহরে পুরোনো বাড়ি ঘরের সংখ্যা বেশি সেই শহরে ভুতের উপস্থিতি থাকবে না তাতো কখনোই হয় না।তাই সেরকমই কোলকাতায়ও আছে এমন কিছু জায়গা যেগুলি এই ভুতেদের উন্মুক্ত চারণভুমি হিসেবে বিখ্যাত থুরি কুখ্যাত।চলুন দেখে নেওয়া যাক কোলকাতার ভূতেদের বাসস্থান -এর সন্ধান।

Web content writing training Online

সম্পর্কিতঃআপনার বাড়িতে অশুভ শক্তির উপস্থিতি নেই তো? দেখে নিন জানার উপায়!

পার্কস্ট্রিট গোরোস্থানঃ

ভূতেদের বাসস্থান
Source: Collected

এই গোরোস্থানটি তৈরী করেছিলেন ব্রিটিশরাই ১৭৬৭ সালে।কোলকাতার লোয়ার সার্কুলার রোডে অবস্থিত এই গোরোস্থানটি।যদিও বর্তমানে এই গোরোস্থানে আর কবর দেওয়া হয় না তবে ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশ সৈন্যদের এখানেই কবর দেওয়া হত।এখানে কোলকাতার প্রতিষ্ঠাতা স্যর জোব চার্নকের সমাধিও আছে।জনশ্রুতিতে শোনা যায় এখানে সেইসব ব্রিটিশ সৈনিকদের আত্মা এখনও ঘোরাফেরা করে।যদিও তারা কারোর কোনো ক্ষতি করে না।কিন্তু শোনা যায় গোরোস্থানে গেলে কোনো অদৃশ্য শক্তির উপস্থিতি এখনও অনুভূত হয়।

আকাশবানী ভবনঃ

Source: Collected

আকাশবানী ভবনও কোলকাতার বুকে ব্রিটিশদের তৈরী এক প্রাচীন বাড়ি।আধো অন্ধকার করিডর,অন্ধকার জনমানবহীন কিছু জায়গা,পুরনো বাড়ি সবমিলিয়ে ভুতেদের বাসস্থানের জন্য এক উপযুক্ত স্থান।লোকেরা বলে এখানে দুই রকমের ভুত থাকে একদল ব্রিটিশ ভুত আরেক দল হল বাঙালী ভুত।এখানে অনেক শিল্পীও তেনাদের অস্তিত্ব অনুভব করেছেন।অনেক নামজাদা শিল্পীদেরও তারা জানান দিয়েছে তাঁদের অস্তিত্ব।এখনও রাতের দিকে আকাশবানী ভবনের বিভিন্ন স্টুডিও থেকে ভেসে আসে নানান সুরেলা আওয়াজ তবে সেগুলো কিন্তু কোনো মানুষের দ্বারা বাজানো আওয়াজ নয়।

রাইটার্স বিল্ডিংঃ

Source: Collected

এই স্থাপত্যও তৈরী হয়েছিল ব্রিটিশদের আমলে।নব্য প্রশাসনিক কেরানীদের কর্মস্থল হিসাবে বানানো হয়েছিল এই মহাকরণ।এই বিশাল বাড়িটিই ছিল নবান্নের আগে রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন।এই সুবিশাল ভবনে এখনো অনেক ঘর আছে যেইগুলো এখনো খোলা হয় নি।এটিও কোলকাতার ভূতেদের বাসস্থান । এই বাড়িটিতেও বিভিন্ন অদ্ভুদ কান্ডকারখানা হতে দেখা যায়।আগে যারা কাজ করতেন এইখানে তারা অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন সেইসব  কান্ডকারখানা।এখানের কর্মচারীরা অনেকেই সন্ধ্যের পর আর থাকতে চাইতেন না এখানে।অত্যাচারী ব্রিটিশ সৈন্যদের আত্মার বাস এই মহাকরণে।আসে পাশের বাড়ির লোকেদের কাছে শোনা যায় এখনো নাকি রাতের বেলায় জনমানবশুন্য মহাকরণ থেকে অদ্ভুদ সব ভয়ানক আওয়াজ ভেসে আসে।

পুতুল বাড়িঃ 

Source: Collected

যদিও এই বাড়িতে এখনো লোকের বসবাস আছে, তবে সন্ধ্যের পরে বাড়ির লোকেরাও দোতলা বা তিনতলায় উঠতে ভয় পায়।রোমান স্থাপত্যের এক অদ্ভুত নিদর্শন এই পুতুল বাড়ি।এই বাড়ি আগে ছিল এক অত্যাচারী জমিদার বাড়ি।শোনা যায় তিনি নাকি মহিলাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করে তাদের মেরে ফেলতেন।সেইসব মহিলাদের অতৃপ্ত আত্মা নাকি পুতুল রূপে এ বাড়ির আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ায়।

গঙ্গার ঘাটঃ

Source: Collected

নৌকাডুবি, আত্মহত্যা এইসব তো গঙ্গায় লেগেই আছে।তাই গঙ্গার ঘাটে ভুতের অস্তিত্ব থাকা অস্বাভাবিক নয়।ভোররাতের দিকে অনেকেই প্রতক্ষ্য করেছেন কিছু অস্বাভাবিক কান্ড।জলের মধ্যে থেকে দুই হাত বাড়িয়ে সাহায্য চাইতে দেখা যায়।তবে কাছে গেলেই দেখা যায় সেইহাত মোটেও মানুষের নয়।

রয়্যাল ক্যালকাটা গলফ ক্লাবঃ

Source: Playo

ব্রিটিশ আমলে এই মাঠে রেসে মেতে থাকতে দেখা যেত জর্জ উইলিয়ামসকে। তাঁর প্রিয় ঘোড়ার নাম ছিল পার্ল হোয়াইট।এই ঘোড়া অনেক রেসে উইলিয়ামসকে জয় এনে দিয়েছে। কিন্তু সময়ের সাথে একদিন হোয়াইট পার্ল বার্দ্ধক্যের কারণে মারা যায়। শোনা যায় প্রতি শনিবার রাতে পূর্ণিমার আলোয় নাকি ঘোড়া ও তার মালিকের আবছা মূর্তির অস্তিত্ব এখানে দেখা যায় এখোনো।

ন্যাশনাল লাইব্রেরিঃ

Source: Collected

এই ন্যাশনাল লাইব্রেরি সকালবেলা জমজমাট থাকলেও রাত হলে এখানেও শুরু হয় ভুতের উপদ্রব।বইয়ে ঠাসা ন্যাশনাল লাইব্রেরি কিন্তু সন্ধ্যা হতে না হতেই তার চেহারা পালটে ফেলে।অনেকেরই ভাগ্যে জুটেছে তেনাদের দর্শন। অনেকেই বলেন এক প্রেমিক যুগলকে নাকি এই লাইব্রেরির আনাচে কানাচে মাঝেমধ্যেই দেখা যায়। যদিও তাদের পরে খোঁজ পাওয়া যায় নি।

নিমতলা মহাশ্মশানঃ

Source: Collected

কোলকাতার ভূতেদের বাসস্থান হিসেবে এই জায়গাটিও খ্যাত। মধ্য কলকাতায় অবস্থিত এই ঘাট সবথেকে পুরোনো ঘাট।এঈ ঘাটে বহু প্রাচীনকাল থেকে বহু মানুষের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।লোক মুখে শোনা যায়, অঘোরী তান্ত্রিকেরা নাকি বিশেষ বিশেষ রাতে এই শ্মশানে আসেন। মৃতদেহের উপর বসে রক্তপান করেন।

রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনঃ

Source: Collected

শহরের ৮০ শতাংশ আত্মহত্যাই নাকি এই মেট্রো স্টেশনে হয়েছে। তাই ব্যস্ততম মেট্রো স্টেশনটি শহরের অন্যতম ভুতুড়ে স্টেশনও বটে।

100% Free Domain Hosting - Dreamhost banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

সাফাই কর্মী ছাঁটাই নিয়ে বিক্ষোভ, উত্তেজনা মালদা মেডিক্যাল কলেজে

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এইসব সাফাই কর্মীরাই নিজেদের জীবন বাজি রেখে হ…