Home স্বাস্থ্য, শরীরচর্চা ও সুরক্ষা গর্ভাবস্থায় শরীরচর্চা করা উচিত কেন? জেনে নিন

গর্ভাবস্থায় শরীরচর্চা করা উচিত কেন? জেনে নিন

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। শরীরের বাহ্যিক পরিবর্তন এবং ফিটনেসের সমস্যা অনেক নারীকে দুঃচিন্তায় ফেলে দেয়। এজন্য মানসিক অবসাদে ভোগেন অনেকে। তবে সঠিক ওয়ার্কআউট/শরীর চর্চা আপনাকে এই ধরনের সকল সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে। ভারসাম্যপূর্ণ ব্যায়াম গর্ভবতী মা এবং শিশু উভয়ের জন্যই ভীষণ উপকারী। এরকম বেশ কিছু উপকারী দিক আছে যা একজন গর্ভবতী নারীকে এই সময় ব্যায়াম করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

Web content writing training Online

স্বাভাবিক প্রসবঃ সুস্থ স্বাভাবিক বাচ্চা প্রসবের জন্য আপনার শরীর ফিট থাকা খুবই প্রয়োজন। প্রসবের সময় অনেক শক্তি, সহনশীলতা, শারীরিক ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। আর পর্যাপ্ত শারীরিক ব্যায়াম আপনাকে এই সময়ে অনেকাংশে সাহায্য করবে।

ওজনের সমস্যার সমাধানঃ গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন হরমোনাল প্রক্রিয়ায় প্রভাবে শরীরে বাড়তি ওজন তৈরী হয়। প্রতিদিনের সামান্য ব্যায়াম আপনাকে সুস্থ এবং স্বাস্থ্যবান রাখবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি থেকে রক্ষা করবে।

মর্নিং সিকনেস নিয়ন্ত্রনে রাখতে: অনেক গর্ভবতী মহিলা, বিশেষ করে প্রথমবার সন্তান জন্ম দিচ্ছেন এমন মহিলারা মর্নিং সিকনেসের সমস্যায় ভুগেন। এসময় গর্ভবতী মহিলাদের  বেশী বেশী বমি হয় এবং শরীর অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়ে। খাবারে রুচি কমে যায়। নিয়মিত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে: গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি এবং শেষের দিকে অনেক গর্ভবতী মহিলারই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। একজন গর্ভবতী মহিলা যদি দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটতে পারেন, তাহলে এই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুনঃজেনে নিন গর্ভাবস্থায় শরীরচর্চা করার নিয়ম!

গর্ভস্থ শিশুর রক্ত সঞ্চালন, হার্ট ও মস্তিস্ক বিকাশে:  গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত ব্যায়ামে গর্ভস্থ শিশুর রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। হার্টের কার্যক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়ামের কারণে সন্তানের মস্তিস্ক  অনেক উন্নত এবং স্মৃতি প্রখর হয়।

অবসাদ থেকে মুক্তিঃ গর্ভাবস্থায় অবসাদ কিংবা দুশ্চিন্তার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এবং এই অবসাদের প্রভাব গিয়ে পড়ে গর্ভস্থ সন্তানের উপর। তাই নিজেকে অবসাদ/স্ট্রেস থেকে মুক্ত রাখতে ব্যায়াম অনেক ভুমিকা রাখতে পারে। এছাড়া দৈনিক ৩০ মিনিটের হাঁটাহাঁটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকেও দূর রাখে ও দেহের সঠিক মেটাবলিজমে সাহায্য করে।

ঘুমের সমস্যা দুরীকরণে: গর্ভাবস্থায় ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় এবং এর ফলে অস্থিরতা, অবসাদ বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত শরীরচর্চার বিকল্প নেই।

আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: নিয়মিত ব্যায়ামে যখন দেখবেন গর্ভাবস্থার এই সময়ও আপনি স্বাস্থ্যবান আছেন, ফিট আছেন এবং সুস্থ আছেন; তখন আপনার আত্মবিশ্বাস এমনিতেই অনেক বেড়ে যাবে।

ফিটনেস দ্রুত ফিরে আনা:  সন্তান প্রসবের আগেই অর্থাৎ গর্ভাবস্থার সময় থেকেই যদি আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকেন তাহলে বাড়তি ওজন ঝরিয়ে আপনি খুব দ্রুতই ফিটনেট ফিরে পাবেন।

শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে তোলা: শরীরচর্চায় ঊরু, পিঠ এবং শরীরের নিম্নাংশের মাসল টোন করে যা প্রসবের সময় প্রসব বেদনা কমাতে সাহায্য করে। শরীরকে প্রসবের জন্য উপযুক্ত করে এবং স্বাভাবিক প্রসবে সাহায্য করে।

100% Free Domain Hosting - Dreamhost banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

খুব বেশি কফি খান? খুব সাবধান, দেখা দিতে পারে এই সমস্যাগুলি

এক-আধ কাপ খেলে কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কফি পান করলে কী কী হতে পারে সেটা একবা…