Home সাহিত্য ও সংস্কৃতি ১০টি বাংলা বই যা প্রত্যেক বাঙালীর পড়া উচিৎ – দেখে নিন সেই ১০টি বইয়ের নাম

১০টি বাংলা বই যা প্রত্যেক বাঙালীর পড়া উচিৎ – দেখে নিন সেই ১০টি বইয়ের নাম

নবীন প্রজন্মের জন্য যারা কিনা বই পড়ার অভ্যাস শুরু করতে চলেছেন, তাদের কথা মাথায় রেখে নীচে উল্লেখ করা হল এমন ১০টি অসাধারন বইয়ের নাম যা প্রত্যেক বাঙালীর অবশ্যই পড়া উচিত।

সাহিত্য বাঙালীর সাথে ওতপ্রত ভাবে জড়িয়ে আছে।যে বাঙালী ছোট থেকে রবীন্দ্র-শরৎ রচনাবলী পড়ে এসেছেন যাদের বড় হওয়ার সাথে সমরেশ,সুনীল এবং আরও সব খ্যাতনামা লেখক জড়িত, বই যে সেইসব বাঙালীর জীবনের একটি অঙ্গ হয়ে দাঁড়াবে, এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না।তাই নবীন প্রজন্মের জন্য যারা কিনা বই পড়ার অভ্যাস শুরু করতে চলেছেন, তাদের কথা মাথায় রেখে নীচে উল্লেখ করা হল এমন ১০টি অসাধারন বইয়ের নাম যা প্রত্যেক বাঙালীর অবশ্যই পড়া উচিত।

Web content writing training Online

১. শেষের কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Source: Amazon.in

সাহিত্য নিয়ে আলোচনা যাকে ছাড়া পূর্নতা পায় না তিনি হলেন প্রথম নোবেলজয়ী বাঙালী কবি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।তার লেখা প্রত্যেকটি সৃষ্টিই অসামান্য।কিন্তু তার মধ্যে একটু অন্য স্বাদের লেখা এই উপন্যাসটি।বইটির নাম শেষের কবিতা হলেও এটি কবিতার বই একেবারেই নয়।এই উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৮ সালে।আপনি যদি বইপ্রেমী বাঙালী হয়ে থাকেন তবে এই উপন্যাসটি অবশ্যই আপনার পড়ার তালিকায় সংযোজন করতে হবে।

২. শ্রীকান্ত – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Source: Subhaditya InfoWorld

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত একটি কালজয়ী উপন্যাস হল শ্রীকান্ত। এই উপন্যাসটি মূলত চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত। এই উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯১৭ সাল থেকে ১৯৩৩ সালের মধ্যে।এই উপন্যাসটি মূলত প্রধান চরিত্র শ্রীকান্ত-এর অভিযানগুলোর ওপর ভিত্তি করে লেখা।এটিকে প্রথম আধুনিক ভারতীয় উপন্যাস হিসেবে গন্য করা হয়।নতুন পাঠকদের জন্য শ্রীকান্ত একটি অবশ্য পাঠ্য।

৩. মিতিন মাসি সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

Source: Amazon.in

ছোট থেকে বড় সব বয়সের পাঠকদেরই আকর্ষনের বিষয় হল গোয়েন্দা উপন্যাস।সেইরকমই কালজয়ী এক কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্রের নাম হল প্রজ্ঞাপারমিতা মুখার্জী  ওরফে মিতিন মাসি।মিতিন মাসি হলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা গোয়েন্দা।এবং তার সৃষ্টিকর্তা হলেন আরেকজন বিখ্যাত মহিলা লেখিকা সুচিত্রা ভট্টাচার্য।মিতিন মাসির সমস্ত উপন্যাসগুলি হল-

  • সারাণ্ডায় শয়তান
  • জোনাথানের বাড়ির ভূত
  • কেরালায় কিস্তিমাত
  • সর্প রহস্য সুন্দরবনে
  • ঝাও ঝিয়েনের হত্যারহস্য
  • ছকটা সুডোকুর
  • আরাকিয়েলের হীরে
  • গুপ্তধনের গুজব
  • হাতে মাত্র তিনটে দিন
  • কুড়িয়ে পাওয়া পেনড্রাইভ
  • মার্কুইস স্ট্রীটের মৃত্যুফাঁদ
  • টিকরপাড়ার ঘড়িয়াল
  • দুঃস্বপ্ন বারবার
  • স্যান্ডার্স সাহেবের পুঁথি

পার্থমেসো, বুমবুম আর টুপুরকে নিয়ে মিতিন মাসির এইসব শিহরণ জাগানো অভিযান গুলোর সাক্ষী হতে গেলে একবার পড়ে দেখতেই হবে সুচিত্রা ভট্টাচার্য-এর মিতিনমাসি সমগ্র।

৪. পার্থিব – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

Source: Amazon.in

১৯৭৪ সালে প্রথম প্রকাশিত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত একটি উপন্যাস হল পার্থিব। অজস্র চরিত্র, নানান ঘটনাবলী, মানুষের জীবনের নানা টানাপোড়েন, উত্থানপতন, ঘাত-প্রতিঘাত অসাধারন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি এখানে, এবং যেভাবে সবাইকে একজায়গায় জড়ো করে এক স্রোতে মিলিয়েছেন, সেটা এককথায় অতুলনীয়।বইয়ের তাকে রাখার জন্য অন্যতম বইগুলোর মধ্যে একটি হল পার্থিব।

৫. বিষবৃক্ষ – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Source: books.com.bd

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর লেখা এক কালজয়ী উপন্যাস হল বিষবৃক্ষ।এটি বঙ্কিমচন্দ্রের চতুর্থ বাংলা উপন্যাস।১২৭৯ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যা (১৮৭২) থেকে চৈত্র সংখ্যা (১৮৭৩) পর্যন্ত বঙ্গদর্শন পত্রিকায় মোট বারোটি কিস্তিতে বিষবৃক্ষ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ সালের ১ জুন। এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা – বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা।এই উপন্যাসের পটভূমি বিধবাবিবাহ আইন পাশ হওয়ার সমসাময়িক কাল। এই উপন্যাসের নায়িকা বিধবা কুন্দনন্দিনীর চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠা কন্যার ওপর ভিত্তি কয়রে রচিত হয়েছে বলে জানা যায়।

৬.শঙ্কু সমগ্র – সত্যজিৎ রায়  

Source: Amazon.in

প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় চরিত্র। ১৯৬১ সালে সত্যজিৎ রায় এই চরিত্রটি সৃষ্টি করেন।  তিনি একজন বৈজ্ঞানিক ও আবিষ্কারক।তার কাহিনী নিয়েই রচিত এই শঙ্কু সমগ্র।সত্যজিৎ রায়-এর এই অসাধারন সৃষ্টি না পড়লে সত্যিই অনেক বড় অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

৭. সেই সময়- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

Source: Parabaas.com

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রচিত এক অন্যতম ঐতিহাসিক উপন্যাস হল সেই সময়। এই উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে।১৮৪০ থেকে  ১৮৭০ সালের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে লেখা এই উপন্যাস।এই উপন্যাসটি দুটি খন্ডে বিভক্ত।

৮. টেনিদা সমগ্র – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

Source: Flipkart

টেনিদা সমগ্র হল নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়-এর রচিত বিখ্যাত কিশোর উপন্যাস।এক কাল্পনিক চরিত্র টেনিদার কান্ডকারখানার ওপর ভিত্তি করে লেখা এই উপন্যাস। টেনিদা মূলত উত্তর কলকাতার পটলডাঙায় বসবাসরত একটি স্থানীয় চরিত্র। টেনিদার প্রকৃত নাম ভজহরি মুখার্জি। পটলডাঙার আশেপাশে ​​বসবাসরত চার তরুণ ছেলেদের একটি দলের নেতা টেনিদা।টেনিদার গল্প মূলত দুই ধরণের, (এক) টেনিদা তাঁর তথাকথিত বীরত্বের বানানো গল্প বর্ণনা করেন। (দুই) টেনিদা ও প্যালা বা চার তরুণ দলের অত্যধিক উল্লসিত অ্যাডভেঞ্চারের আকর্ষণীয় এবং শেষে রহস্যময় পরিস্থিতি মাধ্যমে সমাধানের গল্প বর্ণনা করা হয়।

৯. চাঁদের পাহাড় -বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 

Source: Pinterest

প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা রোমাঞ্চকর উপন্যাস হল চাঁদের পাহাড়। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হওয়া এই উপন্যাসটি শঙ্কর নামক ভারতবর্ষের সাধারণ এক তরুণের আফ্রিকা মহাদেশ জয় করার কাহিনী। বাংলা ভাষায় সম্ভবত এটিই সর্বাধিক জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ রোমাঞ্চকর উপন্যাস

১০. ব্যোমকেশ সমগ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

Source: Amazon.in

ব্যোমকেশ বক্সী শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্ট বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র। ব্যোমকেশ বক্সীর আবির্ভাব হয় সত্যান্বেষী গল্পে।এবং তারপর থেকে তার একের পর এক শিহরণ জাগানো ঘটনার সাক্ষী থেকে পাঠকগন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজের গল্পগুলিতে লেখক হিসেবে ব্যোমকেশের বন্ধু অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপস্থাপিত করেছেন।বাংলা সাহিত্যের স্বাদ আস্বাদন করতে হলে ব্যোমকেশকে তালিকায় রাখতেই হবে।

100% Free Domain Hosting - Dreamhost banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

প্রতিযোগিতার মধ্যেই মোগল ঐতিহ্য ধরে রেখেছে চকবাজার ইফতার

বরাবরের মত এই রমজানেও পুরান ঢাকায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ইফতারি আয়োজনে এক ধরনের অলিখিত প্রত…