কালোজিরার উপকারিতা
Home লাইফস্টাইল আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ১০টি কালোজিরার উপকারিতা !

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ১০টি কালোজিরার উপকারিতা !

সাধারণত কালোজিরা রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এরও আছে অসাধারণ কিছু গুণাগুণ। শরীরের প্রায় যে কোনো সমস্যা সমাধানে এই কালোজিরের জুড়ি মেলা ভার। কালো জিরে যেমন খাদ্যের মধ্যে স্বাদ বৃদ্ধি করে খাদ্যমানকে উৎকৃষ্ট করে তোলে সেরকম শরীরের উপকার করে শরীরকে উন্নত মানের করে তোলে। চুল সুস্থ রাখার থেকে শুরু করে ত্বকের যত্ন নেওয়া এছাড়া বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কালোজিরার অশেষ অবদান। এই কালোজিরা যে এত কাজে লাগতে পারে এ অনেকেরই অজানা। আসুন দেখে নেওয়া যাক এই কালোজিরার উপকারিতা গুলো।

Web content writing training Online

 কালোজিরার উপকারিতা –

১)কালোজিরা সর্দি সারাতে সাহায্য করেঃ

এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু বা এক কাপ লিকার চায়ের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩বার করে খান।এছাড়াও যতদিন রোগ না ছাড়ে কালোজিরার তেল ঘাড়ে ও পিঠে মালিশ করতে হবে। আরেকভাবেও কালোজিরা ঠান্ডা লাগা কমাতে সাহায্য করে। এক চা-চামচ কালোজিরার সঙ্গে তিন চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি দূর হয়। সর্দি বসে গেলে কালিজিরা বেটে কপালে প্রলেপ দিন এবং তার সঙ্গে পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে কালিজিরা বেঁধে শুকতে থাকুন, জমে থাকা শ্লেষ্মা তরল হয়ে ঝরে পড়ে যাবে। আরো দ্রুত ফল পেতে বুকে ও পিঠে কালিজিরার তেল মালিশ করুন।

২) মধুমেহ নিয়ন্ত্রনে রাখেঃ

মধুমেহ রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে বেশ কাজে লাগে কালোজিরা।এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা এক গ্লাস জলের সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে যান, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ লিকার চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২বার করে নিয়মিত করে খান।এটি মধুমেহ রোগ নিয়ন্ত্রন করতে খুবই উপযোগী।

৩) স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করেঃ 

এক চা-চামচ পুদিনাপাতার রস বা কমলা লেবুর রস বা এক কাপ লিকার চায়ের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে নিন।সেটি দিনে তিনবার করে নিয়মিত খান।এটি দুশ্চিন্তা দূর করতে সাহায্য করে।এছাড়াও কালোজিরা মেধার বিকাশের জন্যও ব্যবহার করা হয়।কালোজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক পদার্থ।এটি মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধি করে এবং  স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। কালোজিরা খেলে আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধি পায়।যা আমাদের স্মৃতি শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

৪) বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করেঃ 

যেই স্থানে ব্যথা সেই স্থানটিকে ভালোভাবে পরিস্কার করে ধুয়ে নিন।এবার সেখানে কালোজিরার তেল দিয়ে নিয়মিত মালিশ করুন।এছাড়াও এক চা-চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরার তেল সমপরিমান মধু বা এক কাপ লিকার চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার করে ২/৩ সপ্তাহ খান। ফল পেয়ে যাবেন হাতে নাতে।

৫) হৃদরোগ সারাতেও সাহায্য করে কালোজিরাঃ

এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সহ এক কাপ দুধ খেয়ে দৈনিক ২বার করে ৪/৫ সপ্তাহ খান এবং শুধু কালোজিরার তেল বুকে নিয়মিত মালিশ করুন।এতে অনেক সমস্যা কমে যাবে।

আরও পড়ুনঃজেনে নিন কলার উপকারিতা -এখন রক্তচাপের সমস্যাকেও সারিয়ে দেবে এই ফল!

৬) দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে কালোজিরাঃ 

কালোজিরা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে।ফলে যে কোন জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি করে। ১ চামচ কালোজিরা অথবা কয়েক ফোটা কালোজিরার তেল ও ১চামচ মধুসহ প্রতিদিন সেবন করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

৭) ত্বককে যৌবন রাখতে সাহায্য করেঃ 

ত্বকের গঠনের উন্নতি ও ত্বকের প্রভা বৃদ্ধির জন্য কালোজিরার জুড়ি মেলা ভার।এতে লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামের এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড থাকে যা পরিবেশের প্রখরতা, স্ট্রেস ইত্যাদি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বককে সুন্দর করে ও ত্বকের যৌবন ধরে রাখে।

  • মধু ও কালোজিরার পেস্ট বানিয়ে ত্বকে লাগিয়ে আধাঘন্টা বা একঘন্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন, এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে।
  • যদি আপনার ব্রণর সমস্যা থাকে তাহলে আপেল সাইডার ভিনিগারের সাথে কালোজিরা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন।এটি নিয়মিত লাগালে ব্রণ দূর হবে।
  • শুষ্ক ত্বকের জন্য কালোজিরার গুঁড়া ও কালোজিরার তেলের সাথে তিলের তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান।এক সপ্তাহের মধ্যে পরির্বতন দেখতে পাবেন।

৮) এটি পিঠের ব্যথা নিরাময় করতে সাহায্য করেঃ

কালোজিরার থেকে যে তেল বের করা হয় তা  পিঠে ব্যথা কমাতে বেশ সাহায্য করে। এছাড়াও সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

৯) উচ্চরক্তচাপ কমাতে সাহায্য করেঃ 

যখনই গরম পানীয় বা চা পান করবেন তখনই কালোজিরা কোন না কোন ভাবে সাথে খাবেন। গরমখাদ্য বা ভাত খাওয়ার সময় কালোজিরা ভর্তা খান। এ উভয়পদ্ধতির সাথে রসুনের তেল সাথে নিন।সারা দেহে রসুন ও কালোজিরা তেল মালিশ করুন। কালোজিরা, নিম ও রসুনের তেল একসাথে মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন।এতে শীঘ্রই ফল পাওয়া যায়।

১০) চোখের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করেঃ 

রাতে ঘুমোবার আগে চোখের উভয়পাশে ও ভুরুতে কালোজিরা তেল মালিশ করুন এবং এককাপ গাজরের রসের সাথে একমাস কালোজিরা তেল সেবন করুন। নিয়মিত এটি করলে উপকার হবে।বেশী অসুবিধা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

100% Free Domain Hosting - Dreamhost banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

পুজো হবে, নাকি হবে না ! দোটানায় কলকাতার আবাসনের দুর্গা পুজো !

 হবে, নাকি হবে না? কলকাতার আবাসনে এটাই পুজোর ভাবনা। আবাসনের অনেক আবাসিক দোটানায়! কেউ কেউ …